মেনু নির্বাচন করুন
গল্প নয় সত্যি

ভিক্ষুকমুক্ত উপজেলা

শারীরিক প্রতিবন্ধী জালমাত হোসেনের বয়স ৬২ বছর। এই বয়সে তিনি নিজের গ্রামে একটি মুদি দোকান দিয়েছেন। তিনি বলেন, এটাই আমার প্রথম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বিধবা মফিজন বেওয়ার বয়স ৭৫, তিনি এখন ব্যস্ত মুরগি প্রতিপালনে উত্তরার দুরাকুঠি গ্রামে। তার কোনো আত্মীয় স্বজন নেই তাকে সহযোগিতা করার মতো। সে মুরগি পালনে ব্যস্ত আর মুরগি যে ডিম পারে সেই ডিম বাজারে বিক্রি করে তার দিন চলে।

যে দুজনের কথা উপরে বলা হলো তারা দুজনই ভিক্ষুক ছিল। তাদের গ্রাম নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার। 

৫ জুলাই ২০১৪ ‘ভিক্ষুকমুক্ত কিশোরগঞ্জ উপজেলা’ নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়, যার দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিদ্দিকুর রহমান।

উপজেলা কমিটির প্রেসিডেন্ট হারুনুর রশিদ বলেন, এটা আসলেই একটি চমৎকার ব্যাপার যে ৯৭৯ জন ভিক্ষুক নতুন করে বাঁচতে শিখেছে।তিনি বলেন, প্রথমে তাদের সরকারের দেওয়া সুবিধাগুলো দেওয়া হয়। বৃদ্ধ ভাতা, বিধবা কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধীদেরও সরকারের সুবিধার আওতায় আনা হয়। সরকারের পাওয়া অনুদান ব্যাংকে জমা রেখে তারা টাকা জমানো শুরু করে।

‘একটি বাড়ি একটি খামার’ নামে অন্য একটি প্রকল্পে যাওয়ার পূর্বশর্ত ছিল তাদের এই স্বল্প পরিমাণ জমানো টাকা।তারপর ৭১১ জন ভিক্ষুক তাদের ছোট ব্যবসা শুরু করে। কেউ ছাগল পালন করে, কেউবা আবার গরু পালন করে, রাস্তার পাশে ছোট দোকান দিয়ে শুরু করে কেউ। সরকারের খাস জমিগুলো নার্সারি এবং শাক-সবজি ফলানোর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

১৫ মাসের একটি অর্জন। অন্য ভিক্ষুকরা বিভিন্ন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে কাজ পায়।উপজেলা নির্বাহী অফিসার রহমান বলেন, ‘আমরা আসলে কিছুই করিনি, শুধু পরিচর্চা, সরকারের সেফটি নেট প্রোগ্রাম, কিছু পরামর্শ এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করলাম মাত্র।’উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের প্রমোশন পাওয়ার পরও তা ফিরিয়ে দেন শুধু এই উপজেলার সাথে কাজ করার জন্য।

‘ইউনাইটেড নেশন পাবলিক সার্ভিস পুরস্কার ২০১৫’ জয়ের পথে এগিয়ে আছি। আমরা দুইটি পর্যায় সম্পন্ন করেছি এবং আমরা সঠিক পথে আছি, বলছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

ভিক্ষুকমুক্ত করার এই প্রকল্পকে জাপানিজ ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) সম্প্রতি কাইজান রোল মডেল হিসেবে পুরস্কৃত করেছে।জাইকার পরিদর্শক মাসাতুশি হিগিছি বলেন, কিশোরগঞ্জের একটি বিশাল অর্জন এটি এবং খুব বিস্ময়কর। শক্তিশালী এবং উদ্যমী নেতৃত্বদের মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তি মুক্ত একটি দেশ গঠন করা সম্ভব।কিশোরগঞ্জ বাংলাদেশের আশার আলো বলে দাবি করেছেন গোলাম মোস্তফা, যিনি এই কমিটির সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এ উদাহরণকে অনুসরণ করি তাহলে আমরা এমন একটি দেশ পাব, যেখানে ভিক্ষাবৃত্তি শুধু ইতিহাসের পাতায় থাকবে।’

ছবি/সংযুক্তি


ক্রম


Share with :

Facebook Twitter