মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

আপনাদের নানা প্রশ্ন

ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রমের নানা প্রশ্নের উত্তর

 

কিশোরগঞ্জ উপজেলা ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রম

 

গত ৬ মার্চ, ২০১৪ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদানের পর হতেই লক্ষ করি যে ,   wb¤œ¯^vÿiKvixi `ßimn  উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে,  রাস্তা- ঘাটে, হাটে-বাজারে অনেক ভিক্ষুক ভিক্ষার ঝুলি হাতে ভিক্ষা করছে। তাদের জিজ্ঞাসা করে জানা যায় যে, তারা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় কোন কর্মসূচীর অন্তর্ভূক্ত হতে পারেননি।|বিষয়টি নিম্নস্বাক্ষরকারীকে ভীষণভাবে তাড়িত করে। অতঃপর কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার নিমিত্ত মাননীয় সংসদ সদস্যদ্বয়, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে মত বিনিময় করি। ভিক্ষুকের প্রকৃত সংখ্যা নিরুপনের জন্য আরডিআরএস, আনসার ভিডিপি, ইউনিয়ন পরিষদ, গ্রাম পুলিশ, একটি বাড়ী একটি খামারের মাঠ সহকারী কর্তৃক জরিপ পরিচালনা করা হয়। আরডিআরএস কর্তৃক জরীপে ৯১৬, আনসার ভিডিপি-৬৫০, উপজেলা ভিক্ষুক  পুনর্বাসন কমিটি কর্তৃক জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯৭৯ জন ভিক্ষুক ভিক্ষা বৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে।

 

ভিক্ষুকদের পুর্নবাসনে স্থানীয়ভাবে তহবিল সংগ্রহের নিমিত্তে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পল্লী দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষরে সোনালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার একটি হিসাব খোলা হয়। মানবতার সেবায় সমাজের স্বচছল, বিত্তশালী, উদার শিল্পপতি, ধনাঢ্য ব্যক্তিসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে অনুদান, যাকাত, আর্থিক সাহায্য প্রভৃতি উক্ত হিসাব নম্বরে জমা দিয়ে ভিক্ষুক পুনর্বাসনে এগিয়ে আসার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়। তাতে অনেকেই সাড়া দেন এবং উক্ত তহবিলে জমাকৃত অর্থ হতে ৬,২৩,০০০/- টাকা ব্যয় করে (প্রত্যেকের বার মাসের সঞ্চয় ২৪০০টাকা করে) ২৫৩জন ভিক্ষুককে একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের সমিতির সদস্য করা হয়েছে। এছাড়া ১১৭ জনকে ২,৫১,৮৫০/- টাকা ব্যয়ে ১টি করে  ছাগল প্রদান করা হয়েছে, ১,৭১,০০০/- টাকা ব্যয়ে ১১৯ জনকে হাঁস-মুরগী প্রদান করা হয়েছ এবং ১,৭৫,৭৭০/- টাকা ব্যয়ে ৯০ জনকে বিভিন্ন ব্যবসার উপকরণ ক্রয় করে দেয়া । সর্বমোট ভিক্ষুক পুনর্বাসন বাবদ ১৭,৭৪,২৮০ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আয় ও ব্যয়ের হিসাব নিকাশ একাট স্বতন্ত্র অডিট কোম্পানী দ্বারা অডিট করা হয়েছে।  একটি বাড়ী একটি খামারের সদস্য করার প্রক্রিয়া চলমান। প্রত্যেক ইউনিয়নে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে কর্মের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের জন্য ভিক্ষুকদের নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা করা হয়েছে। ভিক্ষাবৃত্তির বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নস্বাক্ষরকারীসহ জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ অনেকেই পরিদর্শন করছেন। তারা ভিক্ষার পরিবর্তে এখন কর্মে মনোনিবেশ করছেন।

 

ভিক্ষাবৃত্তি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে ওয়ার্ড কমিটি, ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ইউনিয়ন কমিটি, মাননীয় সংসদ সদস্যদ্বয় এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতঃপর ৫ জুলাই ২০১৪ তারিখে কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিক্ষুকমু্ক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। উক্ত ভিক্ষুকমুক্ত (মানবতার সমাবেশে মাননীয় সংসদ সদস্যদ্বয়, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, সকল ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বর, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সম্মানিত শিক্ষক মন্ডলী, সাংবাদিকবৃন্দ এবং ৯৭৯ জন ভিক্ষুকসহ আরও অনেক অতিদরিদ্র মানুষ  উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে সৌদি আরবের খেজুরসহ ২০০০ প্যাকেট ইফতারী বিতরণ করা হয়েছে। ৯৭৯ জন ভিক্ষুকের মাঝে প্রত্যেকে ২টি করে ( একটি ফলদ ও একটি বনজ) চারা গাছ বিতরণ করা হয়েছে।

 

ঈদুল ফিতরের আগে ৫,১০,৬৬০ টাকা ব্যয়ে ভিক্ষুকদেরকে শাড়ী/লুঙ্গি, দু প্যাকেট সিমাই, এক কেজি চিনি, একটি লাক্স সাবান ও নগদ ১০০ টাকা সম্বলিত ঈদ উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

ঈদুল আযহার দিন নয়টি ইউনিয়নের জন্য নয়টি গ্রামে কোরবানী করে প্রত্যেক ভিক্ষুকের মাঝে প্যাকেট বিতরণ করা হয়।ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের আওতায় ভিক্ষুকদেরকে এলজিএসপি থেকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।